ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে সমাবেশের ডাক দিয়েছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কর্মসূচির অনুমতি না দেওয়ায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা ও যন্তর মন্তরের আশপাশে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের (ডিএমআরসি) ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করা হয়েছে।
রেল চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৪টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল, এমন ১৬৫টি ট্রেনের মধ্যে ৩৮টি বাতিল করা হয়েছে। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে কর্মসূচির অনুমতির আবেদন করায় তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, জননিরাপত্তা, যান চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রশাসনিক বিধিনিষেধের মাধ্যমে তাঁদের প্রতিবাদের অধিকার সীমিত করা হচ্ছে।
শুক্রবার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের নামে সাধারণ মানুষের চলাচল ও গণপরিবহনব্যবস্থা অযৌক্তিকভাবে ব্যাহত করা উচিত নয়। আদালত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তবে আদালত একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ আয়োজনের আইনি দিক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনপ্রক্রিয়া নিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিতর্ক থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। বিরোধীদের অভিযোগ, সংশোধনপ্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটার তালিকা পরিবর্তনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার—সব মিলিয়ে দিল্লির এই কর্মসূচি দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।




