পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। মহালয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার ভোর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের সমাগম দেখা গেছে। একই সঙ্গে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণ করতে কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকার গঙ্গার ঘাট ও নদীতীরে জড়ো হন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।মহালয়া দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা বহন করে। প্রচলিত ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, এদিন ভোরে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় জল নিবেদন করে তর্পণ করেন অনেকে।কলকাতার দক্ষিণেশ্বর, বাগবাজার, কুমারটুলি, আহিরিটোলা ও বাবুঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই তর্পণকারীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলার নদীর ঘাটগুলোতেও একই চিত্র দেখা যায়। কোথাও কোথাও তর্পণ করতে আসা মানুষের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিনে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল নিবেদন ও শ্রদ্ধা জানানোর রীতিকে তর্পণ বলা হয়। পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের সূচনার এই দিনটি ঘিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুর্গাপূজার প্রস্তুতিও নতুন গতি পায়।শাস্ত্রজ্ঞদের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ১১টা ২৪ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত তর্পণের শুভ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ধর্মীয় রীতি পালনে অনেকে ভোর থেকেই নদীর ঘাটে উপস্থিত হন।
মহালয়ায় বিপুল মানুষের সমাগমের কথা বিবেচনা করে গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন পুরুষ ও নারী পুলিশ সদস্যরা। পাশাপাশি হুগলি রিভার ট্রাফিক গার্ড এবং দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যরা নৌকা ও বোট নিয়ে নদীতে নজরদারি চালাচ্ছেন।মহালয়ার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে নদীতীর ও মন্দিরগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দুর্গাপূজার অপেক্ষাও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।