দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অংশে শিক্ষার্থীসংকট ও পাঠদান কার্যক্রমের দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়া এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগে ১১২টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৮৬টি ডিপ্লোমা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি)। পঞ্চগড় সদর উপজেলার নতুন বস্তি এলাকায় অবস্থিত মিনেল প্রাইভেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পরিস্থিতি এ সংকটের একটি উদাহরণ। প্রতিষ্ঠানটিতে গত পাঁচ বছর ধরে শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। নথিতে ১৫ জন শিক্ষক থাকার তথ্য থাকলেও অধ্যক্ষ ছাড়া অন্য শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি চোখে পড়ে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ জামিনুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাসের পর শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকে। গত চার বছর ধরে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। তাঁর ভাষ্য, অনেক শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষার পরিবর্তে সাধারণ শিক্ষাকে বেছে নিচ্ছেন। বিটিইবি সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে না পারা ৮৬টি ডিপ্লোমা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ও কৃষিশিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর আগে গত ২৬ জুলাই এইচএসসি বিএমটি পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাব সন্তোষজনক না হলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদন বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। 
প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০২০ সালের নীতিমালার ৪.৪ ধারায় নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিলের সুযোগ রয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে পরীক্ষার ফলাফল, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, শিক্ষা উপকরণ ও লাইব্রেরির ব্যবস্থা। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৬৭টি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০টি ঢাকায় অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর শিক্ষার মান, শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। 
কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারিগরি শিক্ষাকে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা এবং অনুমোদনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০০৯ সালে প্রণীত নীতিমালা ২০১২ সালে সংশোধন করা হলেও তা বাস্তবায়নের তদারকি যথেষ্ট কার্যকর হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিইবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নীতিমালার সব শর্ত পূরণ না করেও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেয়েছে। তাঁর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে নীতিমালার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ শর্ত পূরণ করেই অনুমোদন দেওয়ার নজির রয়েছে। কারিগরি শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো, শিক্ষকসংকট ও ভর্তি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অনুমোদনের শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।