ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টের পাশাপাশি প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা ও নৌসদস্য অঞ্চলটিতে পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। 
ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট গত রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো ঘাঁটি ছেড়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও যুদ্ধবিমান। একই সময়ে ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপও মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। এতে ১৩তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের দুই হাজারের বেশি মেরিন সদস্য রয়েছেন। 
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরী—ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন—অবস্থান করছে। রুজভেল্ট পৌঁছালে একই সময়ে অঞ্চলে তিনটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে এই তিন রণতরী দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। 
নতুন এই সামরিক মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার সেনা, নাবিক ও মেরিন সদস্য যুক্ত হতে পারেন। এসব বাহিনী নভেম্বরের শেষ নাগাদ অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই এ সামরিক তৎপরতা জোরদার হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে আবার হামলা চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। অন্যদিকে, ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। 
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ায় অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে নতুন মোতায়েনের পরবর্তী ব্যবহার সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।