যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরানের পক্ষে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এবং ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে, কারণ ইরান আর বেশিদিন চাপ সামলাতে পারবে না।

ট্রাম্পের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান এমন একটি মার্কিন সরকার চায়, যারা দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগ করবে না এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে।৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত এই নির্বাচনকে প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ড ও জনপ্রিয়তার ওপর ভোটারদের এক ধরনের মূল্যায়ন হিসেবেও দেখা হয়।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ কেবল পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নেই বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, আলোচনায় পারমাণবিক চুক্তির বাইরেও আরও বিভিন্ন বিষয় আসতে পারে।ভবিষ্যতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে স্বীকার করলেও এখন কোনো চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে না বলে জানান তিনি।

ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার দাবি, দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং অর্থনীতি বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান দুর্বল হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।যুদ্ধ শেষ হলে এর প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়বে বলে মনে করেন ট্রাম্প। তার পূর্বাভাস, তেলের দাম দ্রুত কমতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ২ ডলারের নিচে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রায় নয়টি তেলবাহী জাহাজ অচল বা ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে সামনে আরও পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।