জাপানের টোকিও বিগ সাইটে ‘ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও (অটাম) ২০২৬’ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক, হোম টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্যের সক্ষমতা তুলে ধরে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী ফিতা কেটে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন। এবারের প্রদর্শনীতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) অধীনে ২৫টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ২৭টি বুথ নিয়ে অংশ নিয়েছে। এর বাইরে আরও পাঁচটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে।
প্যাভিলিয়ন পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন স্টলে প্রদর্শিত বাংলাদেশি পণ্য ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ‘Bangladesh: Sourcing Excellence for Apparel, Home Textile and Leather Products’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সহযোগিতায় আয়োজিত সেমিনারে জাপানি আমদানিকারক, বিনিয়োগকারী, ট্রেডিং হাউস ও দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সেমিনারে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, বাংলাদেশ জাপানি ব্যবসার জন্য পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়া ও পাদুকা, ওষুধ, সিরামিকস, আইটি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে সম্ভাবনাময় সোর্সিং ও বিনিয়োগ অংশীদার। দক্ষ কর্মী, প্রতিযোগিতামূলক দাম ও উৎপাদন সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশের পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বছরে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। দেশের ২৩০টির বেশি কারখানা লিড (LEED) সনদপ্রাপ্ত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া চামড়া ও পাদুকা খাতের বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগামী পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সেমিনারে জেট্রোর গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ইউজি আন্দো বাংলাদেশের পোশাক, হোম টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্যের মান ও দামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদিত বাংলাদেশের পণ্য প্রতিযোগিতামূলক দামে পাওয়া যায়, যা জাপানি ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর জন্য দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সোর্সিং গন্তব্যে পরিণত করেছে।