রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। এর আগে শনিবার দুপুরে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের ঘোষণা দিলেও এক ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠন দুটি।
জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়। সংগঠন দুটির নেতাদের অভিযোগ, দাবি বাস্তবায়নে সরকার ও সেনাবাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। পাশাপাশি বাড়িঘরে তল্লাশির নামে হয়রানি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
তবে জেএসএসের রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি ডা. গঙ্গা মানিক চাকমা দাবি করেছেন, ইউপিডিএফের চাপে সংগঠন দুটি অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে জেএসএসের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সংগঠন দুটিকে কর্মসূচি দিতে বাধ্য করার দাবি সত্য নয়। তবে সাধারণ মানুষের দাবিতে নেওয়া কর্মসূচির প্রতি তাঁদের সমর্থন থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদকর্মীদের যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। যানবাহন মালিক-শ্রমিক, পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে সাজেক পর্যটন সড়কে চলাচল না করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক মো. মহিউদ্দিন জানান, শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় দুই দফায় প্রায় আড়াই হাজার পর্যটক সাজেক থেকে ফিরেছেন এবং দেড় হাজারের মতো পর্যটক সেখানে প্রবেশ করেছেন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হকের হিসাবে, রাতে প্রায় দুই হাজার পর্যটক সেখানে অবস্থান করতে পারেন। বাঘাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, অবরোধের কথা শুনেছেন। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় পর্যটকদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।




