দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে ফিরেছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের অন্যতম বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। নানা আয়োজনের ঘাটতি ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে প্রতিযোগিতাটির ১৫তম আসর।
দিনের প্রথম ম্যাচে বিকেল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। স্বাগতিক বাংলাদেশের মাঠে নামার সময় রাত ৮টা। প্রথম লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ভুটান। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস।
টুর্নামেন্ট ঘিরে এবার দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশিত উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে না। প্রচার-প্রচারণার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি টিকিটের মূল্য নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। সাধারণ গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে দর্শকদের গুনতে হচ্ছে এক হাজার টাকা। অন্যান্য শ্রেণির টিকিটের দাম আরও বেশি। এ নিয়ে সাবেক ফুটবলারসহ বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এবারের আসরে ট্রফি উন্মোচনের আয়োজনও রাখা হয়নি।
ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০০৩ সালে এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। এরপর ২০০৫ সালে রানার্সআপ হলেও আর শিরোপা জেতা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই এবার মাঠে নামছেন ফুটবলাররা।
কোচ থমাস ডুলি মনে করেন, শিরোপার দাবিদার হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা উচিত। অধিনায়ক তপু বর্মণও ঘরের মাঠে ভালো ফল করার ব্যাপারে আশাবাদী।
তবে প্রথম ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হামজা চৌধুরীকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ক্লাবের ব্যস্ততার কারণে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারছেন না এই মিডফিল্ডার। ফলে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রস্তুতির ঘাটতিও স্বাগতিকদের জন্য উদ্বেগের কারণ। অল্প সময়ের অনুশীলনে কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি দল। এতে খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং কৌশলগত প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো ফলের প্রত্যাশা নিয়ে ঢাকায় এসেছে ভুটান। দলটির কোচ গ্যারি ফিলিপস ও অধিনায়ক চেনচো গিয়েলতশেন নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদী। তবে ঘরোয়া লিগের ব্যস্ত সূচির কারণে তারাও পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুশীলনের পর্যাপ্ত সময় পায়নি।
ছয় দলের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। একই গ্রুপের অন্য দুই দল ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে জায়গা পাবে।
আগামী ১৪ নভেম্বর সেমিফাইনাল এবং ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দলের ম্যাচ মাত্র দুটি হওয়ায় শুরু থেকেই পয়েন্ট অর্জনের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই প্রথম ম্যাচে ভুটানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই বাংলাদেশের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য।



