ঢাকার বংশালে একটি প্রিজনভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ নামে পরিচিত এক আসামিকে নামিয়ে তার বোনের প্রাইভেটকারে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এসআই ও তার দলের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় আরেক আসামিকে হাতকড়া ছাড়া কিছু সময় একা রাখার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটের দিকে বংশালের প্রধান সড়কে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নিম্ন আদালত এলাকা থেকে ২৯ আসামিকে নিয়ে প্রিজনভ্যানটি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের দিকে যাচ্ছিল। পথে যানজটে আটকে যাওয়ার পর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমার ভ্যানের দরজা খুলে ‘পিচ্চি রাজা’কে নামিয়ে আনেন বলে অভিযোগ।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিক খায়রুল বাসারও ভ্যান থেকে বের হয়ে আসেন। পরে তিনি অন্য আসামিদের সঙ্গে না থেকে চালকের পাশের আসনে বসেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ‘পিচ্চি রাজা’কে নিয়ে এসআই প্রবীর প্রায় দুই মিনিট বংশালের মোড়ের দিকে হাঁটেন। সেখানে আগে থেকেই একটি প্রাইভেটকার নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন ওই আসামির বোন তাসলিমা। পরে এসআই নিজেই তাকে গাড়িতে তুলে দেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, এমন একজন আসামিকে কী কারণে এভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের মতে, এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালনে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ব্যস্ত সড়কের মধ্যে প্রিজনভ্যানের দরজা খুলে একজন আসামিকে বাইরে বের করে আনা হলে অন্য আসামিরাও সুযোগ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে পারতেন।

এ ছাড়া খায়রুল বাসারকে হাতকড়া ছাড়া কিছু সময় একা রাখার অভিযোগও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সময় তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটকানোর মতো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

ঘটনার পুরো বিষয়টি তদন্তের পর পুলিশের দায়িত্বে গাফিলতি বা অন্য কোনো অনিয়মের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।