রংপুরে সদর হাসপাতাল নেই, নেই জেলা পর্যায়ের জেনারেল হাসপাতালও। ফলে নগরী ও আশপাশের এলাকার সাধারণ রোগীদেরও চিকিৎসার জন্য ছুটতে হচ্ছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা; দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। এ পরিস্থিতিতে ২৫০ শয্যার সদর বা জেলা হাসপাতাল নির্মাণের দাবি উঠলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।
রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। এতে সদর উপজেলার ঈশ্বরপুর ও হরিদেবপুর মৌজায় প্রস্তাবিত পাঁচ একর জমিতে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে সাত লাখ ১৮ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। তাদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উপজেলার মানুষের উন্নত চিকিৎসার জন্যও হাসপাতালটি প্রয়োজন।
একই বছরের ২৪ আগস্ট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকও সদর বা জেলা হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে চিঠি দেন। ২৬ অক্টোবর তৎকালীন জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরে আনেন। একাধিকবার প্রস্তাব পাঠানোর পরও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
একসময় রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্রে সদর হাসপাতাল চালু ছিল। জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া ও ছোটখাটো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা সেখানে চিকিৎসা পেতেন। ১৯৭৬ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর পর সদর হাসপাতালের কার্যক্রম ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে আসে। পরবর্তী সময়ে ভবনটি টিকাদান, সংক্রামক ব্যাধি ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে পরিত্যক্ত।
এক হাজার শয্যার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জনবল রয়েছে ৬৫০ শয্যার উপযোগী। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বহির্বিভাগে দুই থেকে তিন হাজার এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে।
পরিত্যক্ত হাসপাতাল ভবন ঘুরে দেখা যায়, দরজায় সংক্রামক ব্যাধি ওয়ার্ডের বোর্ড থাকলেও দুই পাশের কক্ষের গ্রিল চুরি হয়ে গেছে। দরজা-জানালার অবস্থা নাজুক, পলেস্তরা খসে পড়ছে। কক্ষগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ও মাদক সেবনের আলামত পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভবনটিতে মাদকসেবীদের আনাগোনার কারণে আশপাশের সড়কে চলাচল নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে।
ব্যবসায়ী মানিক সরকার বলেন, সদর হাসপাতালের সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সব ধরনের রোগীকেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশকান্তি নাগের প্রস্তাব, পুরোনো সদর হাসপাতালের জায়গায় নতুন করে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক। এতে নতুন জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন এড়ানো বা কমানো সম্ভব হতে পারে। জেলা সুজনের সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জুও রংপুরে সদর ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য স্থান উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় উদ্যোগী হলে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।