নারীরা পুরুষদের তুলনায় শরীরের বিভিন্ন অংশে বেশি ব্যথা অনুভব করেন। ১১৮টি দেশের ৬১ লাখের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে করা এক বৈশ্বিক গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণাটি চিকিৎসাক্ষেত্রে নারীদের ব্যথাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
‘নেচার মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে মাথা, মুখ, ঘাড়-কাঁধ, হাত, পা, বুক, পিঠ, পেট, কোমর ও হাঁটুসহ শরীরের ১১টি অংশের ব্যথা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় সব কটি অংশেই নারীদের ব্যথার হার পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। মুখের ব্যথায় ব্যবধান সবচেয়ে বেশি; নারীদের ক্ষেত্রে এ হার পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় বয়সের সঙ্গে ব্যথার সম্পর্কও উঠে এসেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সাধারণত ব্যথার বিস্তার বাড়ে। মধ্যবয়স ও পরবর্তী সময়ে তীব্র ব্যথার প্রকোপ বেশি দেখা যায়। উচ্চমাত্রার ব্যথা প্রায় ৫০ বছর বয়সে এবং সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা প্রায় ৭০ বছর বয়সে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তবে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ব্যথা বৃদ্ধির প্রবণতা তুলনামূলক দ্রুত বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নারীদের বেশি ব্যথা অনুভব করার পেছনে জৈবিক, হরমোনগত, মানসিক ও সামাজিক নানা কারণ থাকতে পারে। মাসিক চক্র, গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তন ব্যথার অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতাও দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার সঙ্গে সম্পর্কিত।
চিকিৎসাক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যও উদ্বেগের বিষয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীদের ব্যথাকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয় কিংবা মানসিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। এতে সঠিক রোগ নির্ণয় ও যথাযথ চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন ও কম আয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো ব্যথার সামগ্রিক মাত্রার একটি অংশ ব্যাখ্যা করে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী ব্যথায় ভোগা মানুষের হারও বেড়েছে। ২০০৯ সালে এ হার ছিল ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০২১ সালে বেড়ে ৩২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক বৈষম্য নারীদের ব্যথা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব তথ্যভিত্তিক গবেষণা আরও প্রয়োজন।
গবেষকদের মতে, চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর ব্যথার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া, বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক ঝুঁকি বিবেচনা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও মূল্যায়ন করা জরুরি। নারীদের ব্যথাকে অবহেলা না করে যথাযথ পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য।