দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন আমদানির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ক্যান্সার চিকিৎসা সম্প্রসারণের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে মেডিকেল ফিজিক্স উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তাঁর দাবি, আগামী দুই বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। মন্ত্রী জানান, রোবটিক সার্জারি মেশিনের পাশাপাশি ১৭টি এক্সেলেটর মেশিন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণ এবং স্তন ক্যান্সার ও যক্ষ্মা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেশজুড়ে আড়াই হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলায় ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ এবং ৪১ হাজার ৩৯০ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তব্যে আগের সময়ের স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, বরিশাল ও গোপালগঞ্জে দুটি এক্সেলেটর মেশিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা যন্ত্রগুলো যথাযথ অবকাঠামো তৈরি না করেই স্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে রোবটিক সার্জারি মেশিন আমদানি, হাসপাতাল নির্মাণ ও জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং অর্থায়নের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।




