অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে আজ বুধবারও দুর্ভোগে পড়েছেন হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। সকাল থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও দুই নম্বর ভবনের সামনে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনকে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
অসুস্থ ভাইকে নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে এসেছেন শামীম গাজী। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি জানান, তার ভাই শাহীন গাজী স্ট্রোক করেছেন। সাভার থেকে তারা এই হাসপাতালে এসেছেন।
শামীম জানান, চিকিৎসক তার ভাইয়ের এমআরআই করতে বলেছেন। লালবাগে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাবেন, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন না।
আশি বছর বয়সী রোগী শাহজাহান মিয়ার মেয়ে শাহিনা আক্তার জানান, তাদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলায়। গত ১৭ অক্টোবর তার বাবাকে ভর্তি করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে যেতে পারেননি। উপায় না পেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, জানান তিনি।
জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষা করছিলেন রেজাউল করিম। তিনি ডেইলি স্টারকে জানান, গতকাল মাওয়ায় সড়কে দুর্ঘটনায় তার বোন সীমা আক্তার আহত হন। চিকিৎসকরা তার বোনকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ‘তিন ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করছি, অ্যাম্বুলেন্স পাইনি। ৯৯৯ নম্বরে কল করেও লাভ হয়নি,’ বলেন রেজাউল।
এক রোগীর স্বজন শফিক আহমেদ বলেন, ‘পুরো হাসপাতাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে। অ্যাম্বুলেন্সও এর বাইরে না। বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে রোগী নিয়ে যাব, তাতেও চালকেরা বাধা দিচ্ছেন। রোগীদের জিম্মি করে তারা আন্দোলন করছেন। সরকারের উচিত, তাদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।’
যোগাযোগ করা হলে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ইমন আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, আমাদের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট চলছে। আজ যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে আগামীকাল থেকে ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে পার্কিংয়ের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকেরা ধর্মঘট পালন করছেন।