দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও ৯ কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে সরকার। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড থেকে এসব এলএনজি কেনা হবে। সরবরাহের সময় চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জেকেএম সূচকের চেয়ে প্রতি এমএমবিটিইউতে ০.১০ ডলার কম। তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সরবরাহের কার্গো সংখ্যা পরিবর্তন করা যাবে। এর আগে মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৯তম সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
একই দিনে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এলএনজি কেনার আরও দুটি প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। এর একটি চেনিয়েরে মার্কেটিং ইন্টারন্যাশনাল ও ট্রাফিগুরার সরবরাহ প্রস্তাব জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণসংক্রান্ত। অন্যটিতে জরুরি প্রয়োজনে বিপি সিঙ্গাপুর, সাহারা এনার্জি রিসোর্স ও শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডল ইস্ট থেকে সরাসরি এলএনজি কেনার বিষয় রয়েছে।
জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের দুটি চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। নির্মাণ চুক্তির ব্যয় ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি বেড়ে প্রায় ২০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকায় পৌঁছাচ্ছে। মূল চুক্তিমূল্যের তুলনায় এ বৃদ্ধি ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
তবে পরামর্শক সেবার ব্যয় বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। এ খাতে মূল চুক্তির প্রায় ৭৭২ কোটি টাকার সঙ্গে আরও ৪০৫ কোটি টাকা যুক্ত হচ্ছে। ফলে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা, যা মূল চুক্তির চেয়ে ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি।
প্রকল্পের নির্মাণকাজ ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল আংশিক চালুর ঘোষণা রয়েছে। এর মধ্যেই প্রকল্পটির তৃতীয় সংশোধনে মোট ব্যয় ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি ক্রয় কমিটির সভায় চিনি, ইউরিয়া, এমওপি ও ডিএপি সার আমদানির কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। মেঘনা সুগার রিফাইনারি থেকে দুই দফায় ৫ হাজার টন করে চিনি কেনা হবে। সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে যথাক্রমে ৪০ হাজার ও ৪২ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও কানাডা থেকে এমওপি এবং সৌদি আরবের মা'আদেন থেকে ডিএপি সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।




