গাবতলী থেকে নিউমার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রস্তাবিত মেট্রোরেল লাইন-২ প্রকল্পে অর্থায়ন চেয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনার জন্য কারিগরি সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।
ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই মেট্রোরেল লাইনের দৈর্ঘ্য ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার। প্রকল্পটির আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা, যা প্রায় ৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে বিশ্বব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। প্রকল্পটির অর্থায়নের পাশাপাশি মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহায়তা চেয়েছে সরকার।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রকল্প প্রস্তাবটি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন করেন। এরপর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বিশ্বব্যাংকের কাছে অর্থায়নের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠায়।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের জন্য নতুন কান্ট্রি প্রোগ্রাম প্রস্তুত করছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। নভেম্বরে আলোচনা শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটির অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
যেসব এলাকা যুক্ত হবে
এমআরটি লাইন-২-এর প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, লাইনটি গাবতলী থেকে শুরু হয়ে ঢাকা উদ্যান, বসিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, ধানমন্ডি ১৫ (জিগাতলা), সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, সাইনবোর্ড, ভুইগড়, চাষাঢ়া ও শিবু মার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জে গিয়ে শেষ হবে।
প্রস্তাবিত ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার লাইনের মধ্যে সাড়ে ৭ কিলোমিটার হবে পাতালপথে। বাকি অংশ নির্মাণ করা হবে উড়ালপথে।
এই লাইনের সঙ্গে গাবতলীতে এমআরটি লাইন-৫-এর উভয় রুটের সংযোগ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কমলাপুর মেট্রোস্টেশনে এমআরটি লাইন-৬, লাইন-১ ও লাইন-৪-এর সঙ্গে সংযোগ হবে। অন্যদিকে, সাইনবোর্ড হবে এমআরটি লাইন-৪-এর সংযোগস্থল।
অন্যান্য মেট্রোরেল প্রকল্পের অগ্রগতি
ঢাকায় ছয়টি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-৬, লাইন-১ এবং লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ধীর থাকলেও বর্তমান সরকার এগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।
গত মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এমআরটি লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া।
এদিকে, এমআরটি লাইন-৪-এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করেছে কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের নিয়োগ করা পরামর্শক দল। প্রতিবেদনটি ব্যাংকটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংকের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে মেট্রোরেল কোম্পানি।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাপান সফর শেষে ছয় দিনের সফরে দক্ষিণ কোরিয়া যাবেন। এ সময় দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নের বিষয়ে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।




