রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় একমাত্র পরীক্ষার্থীকে ১২ শিক্ষক পাস করাতে পারলো না। কান্দির হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোন শিক্ষার্থী পাস করেননি। প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় ১২ জন শিক্ষক পাঠদান করালেও একমাত্র পরীক্ষার্থীর পাস করতে না পারায় শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান নিয়ে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।  
জানা গেছে, এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী সঞ্জীব বর্মন একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। গত বছরও এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেননি। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সে সময় তৎকালীন অধ্যক্ষ আগামীতে ভালো ফলাফলের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা ও পদ নিয়ে নানা জটিলতার ঘটনাও ঘটে।
কান্দির হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল বারী জানান, ২০১১ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে অফিস সহায়কসহ কলেজে ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
অধ্যক্ষের দাবি, এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে ভালো মানের শিক্ষার্থীরা এ কলেজে ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।
কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীসংকটের সমাধান হয়নি। ১২ জন শিক্ষক থাকা সত্বেও একমাত্র পরীক্ষার্থীরও উত্তীর্ণ হতে না পারার ঘটনা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।