কক্সবাজারগামী যাত্রীদের জন্য রেলসেবা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর এক্সপ্রেসের চলাচল কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করায় এ পথে এখন তিন জোড়া ট্রেন চলবে। নতুন সার্ভিসে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার অতিরিক্ত যাত্রীর যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের বর্ধিত রুটের যাত্রা উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ট্রেনসেবা চালুর আগে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে পর্যটন এক্সপ্রেস ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস নামে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করত। কক্সবাজারে যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় মহানগর এক্সপ্রেসের রুট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরাও সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ৪৬৭ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার পথে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি থাকবে ১২টি মধ্যবর্তী স্টেশনে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম। তবে নতুন রুটে কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি থাকছে না।
সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে ট্রেনটি। ফিরতি পথে সকাল ৯টায় কক্সবাজার ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। দুই দিকেই নির্ধারিত ভ্রমণসময় ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
ট্রেনটির আসনসংখ্যা ৭৩৬ ও ৭০৬টি—দুই ধরনের বিন্যাসে। ভাড়া আগের নির্ধারিত হার অনুযায়ী কার্যকর হবে। প্রতি রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। ট্রেনটির রেকের পানি সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য নির্ধারিত কার্যক্রম পরিচালিত হবে কক্সবাজারে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান, আন্তনগর রেলসেবা বাড়ানোর সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এর ফলে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য কক্সবাজারে রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।




