জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে রংপুর বিভাগে অ-অর্থনৈতিক খাতের ক্ষতি উপেক্ষিত থাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব বহন করতে হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষতি হলেও তা যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতিকেও গুরুত্ব না দিলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের ইএসডিও সিলভার জুবিলি ভবনে ‘উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশে জলবায়ু-জনিত চাপের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বোঝা ও তা মোকাবিলা’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম। তিনি জানান, কুড়িগ্রামের সদর, নাগেশ্বরী ও উলিপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ২৭৭টি পরিবারকে নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। গত ১০ বছরে এসব এলাকায় বন্যা, খরা, নদীভাঙন, শৈত্যপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, তাপদাহ, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টিতে অবকাঠামো, ফসল, ঘরবাড়ি, জমি ও গবাদিপশুসহ বিভিন্ন সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, অ-অর্থনৈতিক খাতের মধ্যে ৭২ শতাংশ মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থা, ৬১ শতাংশ শিক্ষা, ৫৮ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা, ৪৭ শতাংশ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং ৪৯ শতাংশ মানুষ বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিয়ে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এসব ক্ষতি দীর্ঘদিন বহন করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে পড়ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
সেমিনারে রংপুর বিভাগে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক নুর আলম, সমাজসেবা রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জিলুফা সুলতানা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সৈয়দা সিফাত জাহান ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম।
সেমিনার সঞ্চালনা করেন ইএসডিও অ্যাকসেস প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক গোলাম ফারুক ও হেলভেটাস বাংলাদেশের লোকালাইজেশন ও পার্টনারশিপ কো-অর্ডিনেটর আয়াতুল্লাহ আল-মামুন। সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, জনপ্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।