সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালের সমন্বয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় না এলে তা সাধারণ মানুষের জন্য নতুন দুর্ভোগ তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপদ হাসপাতাল চাই (নিহাচ)-এর সভাপতি ফারুক আহমেদ শাহেদ।

রবিবার (৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রশাসনিক দুর্বলতার পাশাপাশি ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শয্যা সংকট রয়েছে। এর সঙ্গে অসাধু চিকিৎসক-স্টাফ ও দালালচক্রের যোগসাজশে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শাহেদ বলেন, হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সরকার সমন্বয় করে কাজ করলে তা জনস্বার্থে ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে। তবে টিকিট, পরীক্ষা ফি, চিকিৎসাসেবা এবং খালি ও ব্যবহৃত শয্যার তথ্যসহ সব সেবা সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। কাউন্টার, চিকিৎসক ও রোগী—সব পক্ষের প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ের আগে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নত করা প্রয়োজন। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট অনেক সময় কার্যকর থাকে না। এর ফলে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

নিহাচ সভাপতি বলেন, সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা গেলে রাজধানী ও বড় শহরের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় সিঙ্গাপুরের হাসপাতালের আদলে নির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল পুরোপুরি চালু না হওয়া এবং দক্ষ জনবল ও টেকনিশিয়ানের অভাবে মূল্যবান চিকিৎসাযন্ত্র অব্যবহৃত থাকার বিষয়টি স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই ন্যূনতম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে শাহেদ বলেন, সর্বজনীন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিহাচ তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।