কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়ায় আগাম ও গ্রীষ্মকালীন টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের পরিশ্রমে উৎপাদিত এসব টমেটো স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ, মূলধন সংকট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে আগাম ও গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পেকুয়া উপজেলায় মোট ৪৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে উজানটিয়ায় ১০ হেক্টর জমিতে আগাম ও গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন প্রায় ৩০ মেট্রিক টন। সে হিসাবে চলতি মৌসুমে উজানটিয়ায় প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন টমেটো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি কানি জমিতে টমেটো চাষে খরচ হচ্ছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সরকারি নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ায় বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ না পেয়ে স্থানীয় মহাজন ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিতে হচ্ছে। ঋণের শর্ত অনুযায়ী অনেক কৃষককে উৎপাদিত টমেটো নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বাইরের পাইকাররা এলাকায় আসতে পারছেন না বলে অভিযোগ তাদের।
এক কানি জমিতে টমেটো চাষ করা স্থানীয় কৃষক আনছার উদ্দিন বলেন, ৩০ হাজার টাকায় জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সারের বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। ন্যায্যমূল্য পেলে তাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।
আরেক কৃষক মোহাম্মদ সোলেমান বলেন, সবকিছুর দাম বেশি হওয়ায় চাষাবাদে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, বীজ ও সারের ব্যবস্থা করা হলে তারা উপকৃত হবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রান্তিক কৃষক জানান, সরকারি ঋণ না পেয়ে তারা মহাজনদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের প্রভাবের কারণে বাইরের পাইকাররা এলাকায় আসতে পারেন না। কৃষি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সরাসরি বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেতেন।
পেকুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরী জানান, উজানটিয়ায় অসময়ে লাভজনক টমেটো চাষে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে তদারকি এবং পরামর্শ সেবা দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সার-বীজের সহজলভ্যতা এবং সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে উজানটিয়ার টমেটো চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও লাভবান হবে।