যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগীকে গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের বহির্বিভাগের হেল্প ডেস্কে কর্মরত আলমগীর হোসেন নামে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে ওই নারী জানান, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাতায়াতের সুবাদে বহির্বিভাগের ১২২/১৩৩ নম্বর কক্ষের সামনে হেল্প ডেস্কে কর্মরত আলমগীরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। টিকিট কেটে দেওয়া, চিকিৎসক দেখানো ও ওষুধের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে আলমগীর তাঁর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন।
একপর্যায়ে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে আলমগীর ওই নারীকে যশোর শহরের বারান্দীপাড়ায় তাঁর ভাড়া বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে তাঁকে বিভিন্ন স্থানে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। হাসপাতালের বহির্বিভাগের দন্ত বিভাগের ১১৯ নম্বর কক্ষেও একাধিকবার তাকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, পরে কৌশলে আলমগীরের মোবাইল ফোন থেকে একটি ভিডিও সংগ্রহ করেন তিনি। সম্প্রতি সামনে আসা ওই ভিডিওতে আলমগীরকে এক নারীর হাত ধরে একটি কক্ষে প্রবেশ করতে এবং পরে মোবাইল ফোন স্থাপন করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি অন্যায় করেছি। ভিডিও প্রকাশিত হওয়ায় আমিও লজ্জিত। আমি হাত জোর করে মাফ চাচ্ছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ এদিকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।