ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে নতুন করে প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকিসংবলিত বিলবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে। মঙ্গলবার এসব প্রচারচিত্র জনসমক্ষে আনে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইনকিলাব চত্বরে স্থাপিত একটি বড় বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে কারাগারের ভেতরে বন্দি অবস্থায় দেখানো হয়েছে। ছবির ওপরে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে, ‘উই উইল কিল ট্রাম্প’—অর্থাৎ, ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’।
এর কাছাকাছি আরেকটি প্রচারচিত্রে ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে স্থান দেওয়া হয়েছে। তাঁদের রক্তাক্ত মুখ ও ছেঁড়া পোশাকের পাশাপাশি পেছনে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকা দেখানো হয়েছে।
এ সময় চত্বরে লাল পতাকা ও ব্যানার নিয়ে বহু মানুষ সমবেত হন। তাঁদের বহন করা ব্যানারে প্রতিশোধের বার্তা ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার জবাব দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
তেহরানে ট্রাম্পবিরোধী প্রচার এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন স্থানে তাঁকে ব্যঙ্গ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিজয়ের দাবি জানিয়ে বিলবোর্ড ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আবারও কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কমানোই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের অসন্তোষের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
উত্তর তেহরানের তাজরিশ স্কয়ারে আয়োজিত একটি উন্মুক্ত প্রদর্শনীতেও ট্রাম্পকে নিয়ে একাধিক বিতর্কিত চিত্রকর্ম রাখা হয়েছে। এর একটি ছবিতে তার রক্তাক্ত মুখ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যার ওপর একটি বুট জুতা রাখা। অন্য একটি চিত্রে তার মুখ বোমা দিয়ে ঢেকে রাখার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রদর্শনীর পাশে কারাগারের আদলে তৈরি একটি কক্ষে ট্রাম্পের সাজে একজন অভিনেতাকে রাখা হয়েছে। সেখানে প্রদর্শিত পর্দায় ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থানের দৃশ্যও দেখানো হয়।
ইরানের অভিযোগ, চলমান যুদ্ধে স্কুল ও বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো বেসামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় রাজনৈতিক বার্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে বড় বিলবোর্ড এবং দেয়ালচিত্র ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দেশটির মিত্রদের সম্মান জানানো, সামরিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরতেও এসব প্রচারচিত্র কাজে লাগানো হয়।
সূত্র: এনডিটিভি