ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে বেসামরিক মানুষের জন্য পরিচালিত একটি মানবিক সহায়তা কেন্দ্রে রুশ বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৬ জন। সোমবার (২ নভেম্বর) জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কমিশুভাখা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
আঞ্চলিক প্রশাসনপ্রধান মাইখাইলো সেমিকিন জানিয়েছেন, হামলায় প্রায় তিন টন ওজনের অন্তত নয়টি বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ২৭ জনের নিখোঁজ থাকার প্রাথমিক তথ্যও পাওয়া যায়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ ঘটনাকে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথমে হামলা চালানো হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় আঘাত হানা হয় সেই জায়গায়, যেখানে সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে হামলার পর সৃষ্ট বড় গর্ত এবং বিধ্বস্ত স্থাপনার মধ্যে উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা দেখা যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে অভিযান চালানো হয়।
হতাহতের সংখ্যা নিয়ে প্রথম দিকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। জেলেনস্কি প্রাথমিকভাবে ১৮ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। পরে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ ২৪ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করে। নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী ও চারজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। সোমবার রাতে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ হওয়ার বিষয়টি জানান।
জেলেনস্কির অভিযোগ, কমিশুভাখায় অবস্থানরত বাসিন্দারা প্রতি সোমবার মানবিক সহায়তা সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে আসেন। ফলে সেখানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি সম্পর্কে রুশ বাহিনীর অজানা থাকার কথা নয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের মতে, এ হামলা থেকে স্পষ্ট যে মস্কো যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর পথে এগোতে আগ্রহী নয়। তিনি এর আগে রাশিয়া-অধিকৃত দক্ষিণাঞ্চলের ওলেশকি শহর থেকে বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার একটি যৌথ অভিযানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগে ওই উদ্ধার কার্যক্রম সফল হয়েছিল বলে জানান তিনি।
জেলেনস্কির বক্তব্য, ওই অভিযানের পর শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির এই ঘটনা সেই আশাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। দীর্ঘ সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও গত ফেব্রুয়ারিতে শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। নতুন করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে।
তবে কমিশুভাখায় সর্বশেষ হামলার বিষয়ে রাশিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: বিবিসি