নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভ আবারও প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, আটটি যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রাখায় একটি নয়, আটটি নোবেল শান্তি পুরস্কারই তাঁর প্রাপ্য। একই সঙ্গে নোবেলজয়ী নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইয়ের অবদান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া দুটি দীর্ঘ পোস্টে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। সেখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার কৃতিত্ব দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, কসোভো-সার্বিয়া, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো-রুয়ান্ডা, ভারত-পাকিস্তান, ইসরায়েল-ইরান, মিসর-ইথিওপিয়া, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান এবং ইসরায়েল-হামাস সংঘাত নিরসনে তার ভূমিকা ছিল। এসব উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে আটটি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানোর বিষয়টিকে পুরস্কারের দাবির পক্ষে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, যেসব দেশের নেতাদের তিনি সহায়তা করেছেন, তাদের কেউ কেউ নোবেল কমিটির কাছে তার পক্ষে সুপারিশও পাঠিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এর আগে ট্রাম্পের নাম নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সুপারিশ করার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন। গাজা নিয়ে শান্তি উদ্যোগের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের নাম সুপারিশের কথা বলেছিলেন তিনি।
নাভি পিল্লাইকে নিয়েও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ইসরায়েলের প্রতি তার কথিত বিদ্বেষ ছাড়া পিল্লাইয়ের কাজ সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পিল্লাই কী অবদান রেখেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ ছাড়া ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কৃতিত্বও দাবি করেন ট্রাম্প। তার বক্তব্য, সদস্যদেশগুলোর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি জোটকে শক্তিশালী করেছেন এবং সম্ভাব্য সংঘাত প্রতিরোধে ভূমিকা রেখেছেন।
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় অসন্তোষ জানিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ, কিছু উগ্র মতাদর্শী গোষ্ঠীর কারণে পুরস্কারটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে আটটি সংঘাত নিয়ে তার দাবির পাশাপাশি প্রতিটি ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ও সংঘাতগুলোর প্রকৃত অবস্থা আলাদাভাবে মূল্যায়নের বিষয়। ট্রাম্পের বক্তব্যকে আটটি যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির স্বীকৃত প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।