ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভোটার তালিকা হালনাগাদে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শনিবার (১০ অক্টোবর) নতুন কর্মসূচির কথা জানান দলটির নেতা অজিঙ্ক্য শিন্ডে। এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। সিজেপির দাবি, ওই অভিযানে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। 
তবে আটক ব্যক্তিদের একটি বড় অংশকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আন্দোলন শুরুর আগেই সিজেপির শীর্ষ পর্যায়ের তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনের দায়িত্ব অজিঙ্ক্য শিন্ডের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। শিন্ডে জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানো না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন যন্তর মন্তরে মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চালানো হবে। 
তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন। বিক্ষোভের সময় বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার একাধিক নেতাকেও আটক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকারের নাম রয়েছে। শনিবার রাতের মধ্যে তাঁদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যন্তর মন্তরে পুলিশের অভিযানের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটির নেতারা বলছেন, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাঁদের কর্মসূচি চলবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোও নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।