নিউজিল্যান্ডের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে মধ্যপন্থী অপরচুনিটি পার্টি। দলটির নেতা কিউলে ওংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ায় নির্বাচনের পর ক্ষমতায় কারা আসবে, তা নির্ধারণে তার দল ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৩৮ বছর বয়সী ওং গত বছরের আগস্টে দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। সে সময় জনমত জরিপে দলটির সমর্থন ছিল প্রায় এক শতাংশ। সম্প্রতি কয়েকটি জরিপে তা বেড়ে সাত শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনী ব্যবস্থায় পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য দলীয় ভোটে অন্তত পাঁচ শতাংশ সমর্থন প্রয়োজন।
ওয়েলিংটন থেকে এএফপি জানায়, রাজনীতিতে বিভাজন ও বিরোধের পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ওং। তার মতে, রাজনৈতিক নেতাদের পারস্পরিক আক্রমণ ও বিরোধে সাধারণ মানুষ বিরক্ত; তাঁরা রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন চান।
চীনা ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এবং ফিজিতে জন্ম নেওয়া ওংয়ের বক্তব্য, নিউজিল্যান্ডের মানুষ সহনশীল ও মধ্যপন্থী রাজনীতির প্রতি আগ্রহী। অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পরিবেশের সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।
ম্যাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির অধ্যাপক রিচার্ড শ দলটির অগ্রযাত্রাকে উল্লেখযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আর্ডার্নের মতো ওংও প্রচলিত রাজনৈতিক চর্চার বাইরে গিয়ে নিজস্ব নেতৃত্বের ধরন তৈরি করছেন। বিশেষ করে রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও অনলাইন হয়রানির প্রেক্ষাপটে তাঁর অবস্থান আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
আগামী ৭ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে জরিপগুলোতে অপরচুনিটি পার্টির সম্ভাবনা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। দলটি পার্লামেন্টে আসন পেলে লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোট কিংবা ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট—কোন পক্ষ সরকার গঠন করবে, সেই সিদ্ধান্তে ওংয়ের দল নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। তবে জরিপের এই সমর্থন শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।