মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। জীবনের নানা সময়ে অসতর্কতা, প্রবৃত্তির তাড়না কিংবা শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ গুনাহে জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে গুনাহ হয়ে যাওয়ার পর হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসাই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। ইসলামে তাওবার দরজা সবসময় খোলা রয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা জুমার, আয়াত ৫৩)
**সালাতুত তাওবা কী**
গুনাহ করার পর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করাকে সালাতুত তাওবা বলা হয়। এর মাধ্যমে বান্দা নিজের ভুল স্বীকার করে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো বান্দা গুনাহ করার পর ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। (আবু দাউদ, হাদিস ১৫২১)
**যেভাবে পড়বেন**
সালাতুত তাওবার জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট সূরা বা বিশেষ কিরাআত নির্ধারিত নেই। সাধারণ নফল নামাজের মতো দুই রাকাত নামাজ আদায় করা যায়।
গুনাহ হয়ে গেলে সম্ভব হলে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে হবে। এরপর নিজের অপরাধের জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে ওই গুনাহে আর ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
**তাওবা কবুলের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত**
তাওবার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, যে গুনাহ করা হয়েছে তা ছেড়ে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিজের ভুলের জন্য আন্তরিক অনুশোচনা থাকতে হবে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে ওই গুনাহ আর না করার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।
আর কোনো মানুষের অধিকার নষ্ট করে থাকলে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া বা যথাসম্ভব ক্ষতিপূরণ করা জরুরি। কারণ মানুষের হক শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে শেষ হয় না।
আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তাওবাকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ২২২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী; আর ভুলকারীদের মধ্যে উত্তম হলো যারা বেশি তাওবা করে।’ (তিরমিজি, হাদিস ২৪৯৯)
তাই কোনো গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে দ্রুত আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত। আন্তরিক তাওবা মানুষের ভুল থেকে ফিরে আসার পাশাপাশি তাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথেও নিয়ে যায়।




