বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় চীন। দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং এ অবস্থানের কথা জানান।
তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নেও চীন আগ্রহী।
বাংলাদেশে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে লিউ জানান, প্রায় ৪৬ বছর আগে তার বাবা ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় তিনি আড়াই বছর বাংলাদেশে ছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিকতা এখনো তাঁর স্মৃতিতে রয়েছে।
চীনা এই নেতা জানান, দুই দেশের বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগে ছিল প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও চীনের বিভিন্ন প্রকল্প ভূমিকা রাখছে।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি মোংলা বন্দর শিল্পপার্ক ও তিস্তা নদী পুনরুদ্ধার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজার থেকে উচ্চমানের পণ্য আমদানি বাড়ানোর আগ্রহও প্রকাশ করেন।
সেমিনারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এতে সরকারের উপদেষ্টা, মন্ত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।