কৃষিকে আরও উৎপাদনমুখী, লাভজনক ও জলবায়ু সহনশীল করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কৃষক ও কৃষির উন্নয়ন নিশ্চিত করেই স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
আগামীকাল ৫ নভেম্বর রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’। এ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে ৫ থেকে ৭ নভেম্বর এ মেলার আয়োজন করছে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে কৃষি খাতের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে জড়িত। তাই কৃষকের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়াতে হবে।
তিনি মনে করেন, প্রচলিত কৃষিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো গেলে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। এতে তরুণ প্রজন্মও কৃষিকে সম্ভাবনাময় পেশা ও উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণে আগ্রহী হবে।
মেলায় আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শস্য সংরক্ষণ, দুগ্ধ ও পোলট্রি উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ কৃষির বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে। কৃষি গবেষক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরিতে এ আয়োজন ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
কৃষকদের সহায়তায় সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন সুবিধা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে কৃষক তার শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাবেন, উৎপাদন হবে লাভজনক এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তিনি মেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।




