রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, জমি ও স্থাপনা দখল, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্রের মহড়ার অভিযোগে আলোচিত ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৪। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পল্লবী থানার সিরামিক এলাকা ও ১২ নম্বর ঝিলপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মশিউর-মামুন গ্রুপের সাতজন এবং মোক্তার গ্রুপের একজন রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জুয়েল রানা (২৬), সায়মন (২০), রমজান (২২), বিজয় (২৩), ফজলে রাব্বি চিকু (২৩), আফসার হোসেন জিম (১৯), জাহাঙ্গীর হোসেন ও মিশন ইসলাম ওরফে মিনহাজুল ইসলাম।
এসআরবি-৪ জানায়, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রুপটির সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্রের মহড়া ও শোডাউনের ভিডিও ছড়িয়ে আসছিলেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
পিস্তল-গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার
অভিযানে আফসার হোসেন জিম ও তার সহযোগী সায়মনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, আফসার মশিউর-মামুন গ্রুপের অস্ত্রধারী সদস্য হিসেবে পরিচিত। সায়মনের বিরুদ্ধে অস্ত্র বহন ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। বিজয় ও ফজলে রাব্বি চিকুকেও অস্ত্রধারী সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে এসআরবি-৪। রমজানকে গ্রুপটির সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছ থেকে ২৫টি ইয়াবা বড়ি ও ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পল্লবী এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৪। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুটি মাদক মামলা রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রমজানের বিরুদ্ধে দুটি, ফজলে রাব্বি চিকুর বিরুদ্ধে একটি, মিশন ইসলাম ওরফে মিনহাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি এবং বিজয়ের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।
জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
এসআরবি-৪-এর দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মশিউর-মামুন ও মোক্তার গ্রুপের হয়ে জমি ও স্থাপনা দখল, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
বাহিনীটির তথ্য অনুযায়ী, মিশন ইসলাম ওরফে ‘চোর মিশন’ চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। জুয়েল রানা মোক্তার গ্রুপের সক্রিয় অস্ত্রধারী সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে ওই গ্রুপের সদস্য সাবু ও পাগলা মামুনের হয়ে কাজ করেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
মিরপুর, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এসব সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে এসআরবি-৪।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। এলাকায় কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।