সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করেন অনেকে। কেউ মনে করেন, এতে হজম ভালো হয়; কেউ আবার ওজন কমানোর আশায় এই অভ্যাস গড়ে তোলেন। বাস্তবে সকালে পানি পান শরীরের তরলের চাহিদা পূরণে সহায়ক হলেও, শুধু গরম পানি পান করলেই ওজন কমে যাবে বা সব শারীরিক সমস্যা দূর হবে—এমনটি নয়।
পানির তাপমাত্রা নয়, পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ
ঘুমের সময় দীর্ঘক্ষণ পানি পান করা হয় না। তাই সকালে উঠে পানি পান করলে শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সুবিধা হয়। পানি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে পানি গরম করতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিও একইভাবে শরীরের পানির চাহিদা পূরণে কাজ করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা
পর্যাপ্ত পানি পান মল নরম রাখতে সাহায্য করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে উপকার পাওয়া যেতে পারে। সকালে ঈষদুষ্ণ পানি পান করে কেউ কেউ স্বস্তি অনুভব করেন। তবে এ সমস্যার সমাধানে খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ রাখা, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।
গরম পানি খেলেই কি ওজন কমে?
এটি প্রচলিত একটি ধারণা। কিন্তু ঈষদুষ্ণ পানি শরীরের চর্বি সরাসরি গলিয়ে দেয় না। খাবারের আগে পানি পান করলে কিছু মানুষের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হতে পারে। ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজন পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুম।
গলার অস্বস্তিতে আরাম মিলতে পারে
গলা শুকিয়ে গেলে বা হালকা খুসখুস করলে ঈষদুষ্ণ পানি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে গলাব্যথার সঙ্গে জ্বর, তীব্র ব্যথা বা সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—অতিরিক্ত গরম পানি পান করা ক্ষতিকর হতে পারে। এতে মুখ, জিহ্বা ও গলার ভেতরের অংশ পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পানি পান করতে হবে সহনীয় তাপমাত্রায়।
সকালে পানি পান করার অভ্যাস ভালো হলেও সারা দিনের পানির চাহিদার দিকে নজর দিতে হবে। গরম আবহাওয়া, বেশি পরিশ্রম ও ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার কারণে পানির প্রয়োজন বদলে যায়। আবার কিডনি বা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় চিকিৎসক পানি পানের সীমা নির্ধারণ করে দিলে তা মেনে চলতে হবে। সুস্থ থাকতে সকালে এক গ্লাস পানি দিয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে। তবে ভালো থাকার মূল চাবিকাঠি হলো নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার, শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।