ঢাকার বস্তি ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় যক্ষ্মা শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদারে ১ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে জাপান সরকার। এ অর্থে ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে যক্ষ্মা স্ক্রিনিং সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) ঢাকায় জাপানি দূতাবাসে এ-সংক্রান্ত অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি-এর প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেন।
জাপানের গ্রাসরুটস হিউম্যান সিকিউরিটি প্রজেক্টস (জিজিপি)-এর আওতায় ‘ঢাকা জেলায় যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি সংগ্রহ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় আইসিডিডিআর,বি একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার ও একটি ফুজিফিল্ম পোর্টেবল ডিজিটাল এক্স-রে ইউনিট সংগ্রহ করবে।
এসব সরঞ্জাম নিয়ে ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা দল নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে গিয়ে যক্ষ্মা শনাক্তকরণে কাজ করবে। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৯ হাজার মানুষকে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষাকে জাপান গুরুত্ব দেয়। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে থাকা মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিতে এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে।
আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, নতুন প্রকল্পে তাদের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক দক্ষতার সঙ্গে জাপানি প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে টয়োটা সুশো কর্পোরেশন ও ফুজিফিল্ম গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে টয়োটা সুশো কর্পোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিদানিও উপস্থিত ছিলেন। জাপানের তৃণমূল পর্যায়ের মানব নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগের আওতায় ১৯৮৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ২২৪টি এনজিও প্রকল্পে সহায়তা দিয়েছে জাপান। এসব প্রকল্পে মোট অনুদানের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ মার্কিন ডলার।