বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্তদের অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি মুম্বাইয়ের আন্ধেরি ইস্ট এলাকার একটি হোটেলে পাঁচ দিন অবস্থান করেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে হামলার আগে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ফুল সিং ও রেহান সিং ১৪ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে হোটেলটিতে ওঠেন। ১৮ অক্টোবর বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে তাঁরা হোটেল ছেড়ে যান। হোটেলের কক্ষটির দৈনিক ভাড়া ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ রুপি। 
সেখানে তাঁরা নিজেদের পরিচয় গোপন করে হরিয়ানার হিসারের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রতিদিন অটোরিকশায় করে হোটেল থেকে বের হতেন এবং বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখতেন। হামলার প্রস্তুতি হিসেবে তাঁরা নজরদারি চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কাছে সরবরাহ করা একটি পিস্তল হোটেলে পরীক্ষা করার সময় গুলি ঠিকমতো বের না হওয়ার ঘটনাও তদন্ত করছে পুলিশ।
 ১৮ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর তাঁরা আর সেখানে ফেরেননি। দুই দিন পর পুলিশ হোটেলটিতে পৌঁছালে কর্মীরা বিষয়টি জানতে পারেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে রাজস্থানের কোটা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের নেপালে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশের অভিযোগ। পরে তাঁদের মুম্বাই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হরিয়ানার সোনিপতের ১৮ বছর বয়সী রেহান ওরফে সুক্কা, বিহারের বাসিন্দা ও বর্তমানে মুম্বাইয়ে বসবাসকারী ২২ বছর বয়সী ঋতিক কুর্মি ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ১৮ বছর বয়সী ফুল সিং। 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা অন্তত দুই ব্যক্তি টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তাঁর গাড়িচালক ও এক পথচারী আহত হন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল। পরে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা একটি মোটরসাইকেল আন্ধেরি এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টা ও অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। হামলার পরিকল্পনা, অস্ত্রের উৎস এবং অভিযুক্তদের গতিবিধি নিয়ে তদন্ত চলছে।