চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন। আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠন তিনটি।
সকালে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে যৌথ সভা করে সংগঠনগুলো। পরে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, পূর্বঘোষিত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ কর্মবিরতির পাশাপাশি সব কাজে অসহযোগিতা চলবে। নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে উপস্থিতি তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন বলেও জানান তিনি।
আন্দোলনকারীদের দাবি, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আগের উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি চলছে। সর্বশেষ ৮ অক্টোবর শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় তাঁকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। শিক্ষক সমিতির সভাপতি বলেন, চুয়েট পরিবার শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে গ্রহণ করছে না। সংকট নিরসনে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
তিনি আরও বলেন, চুয়েটে আগে শিক্ষা কার্যক্রম কখনো ব্যাহত হয়নি। আগের উপাচার্যের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছিল। কী কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা তাঁদের বোধগম্য নয়। দুর্গাপূজার ছুটির পর যেন শিক্ষা কার্যক্রম আর ব্যাহত না হয়, সে চেষ্টা করছেন তাঁরা।
এর আগে দায়িত্ব গ্রহণের ১৭ দিন পর সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে যান নতুন উপাচার্য। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে কার্যালয় ছাড়ার সময় বেঁধে দেওয়া হলেও তিনি না যাওয়ায় সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের ফটকে তালা দেওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ে ছিলেন এবং বাইরে অবস্থান করছিলেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, ক্যাম্পাসে অস্থিরতার মধ্যে মদুনাঘাট এলাকায় শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলা, কুয়াইশ এলাকায় ট্রাক দিয়ে বাসের গতি রোধ এবং বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বহদ্দারহাট এলাকায় আরেকটি বাসে হামলার অভিযোগ ওঠে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।




