পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) দুই শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে মারধর, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ ও ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগে পাঁচ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় আরও চার শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের রাসেল আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদ এবং স্থাপত্য বিভাগের শোয়েব উল হক, মাহমুদ হাসান ও আবদুল্লাহ তাইয়্যেব তকি। কারণ দর্শানোর নোটিসের জন্য চিহ্নিত চার শিক্ষার্থী হলেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ফয়সাল ইকবাল হিরন ও ঋতু সরকার এবং স্থাপত্য বিভাগের ইব্রাহিম খলিল ও রিয়াদ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় শাস্তির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের সাত কর্মদিবসের মধ্যে মা-বাবাসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, চার শিক্ষার্থীর বিষয়ে অধিকতর তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় ডিন অফিসের একটি কক্ষে আইসিই বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে আটকে রাখা হয়। তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখার দাবি তুলে অভিযুক্তরা এ ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় একজনকে মারধর, জোর করে ভিডিও ধারণ, ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং তাদের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী ফয়সাল ইকবাল হিরনের অভিযোগ, তাকে জোর করে ভিডিওতে কথা বলতে বাধ্য করা হয় এবং মারধর করা হয়। ঘটনার রাতেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে টাকা দাবি এবং মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে প্রক্টরিয়াল বডি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, মোবাইল ফোন নেওয়ার বিষয়টি শোয়েব স্বীকার করলেও ল্যাপটপ নেওয়ার কথা কেউ স্বীকার করেননি। তবে পরদিন সকালে এক আনসার সদস্যের মাধ্যমে ল্যাপটপটি প্রক্টর অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ক্যাপশন: দুই শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতন ও টাকা দাবির অভিযোগে পাবিপ্রবির পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।