দীর্ঘদিন ধরে বোয়িংনির্ভর বহর পরিচালনার পর এবার এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত করার পথে এগিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনটি।চুক্তি অনুযায়ী, চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে বিমান। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৩ সাল থেকে এসব উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হতে পারে। ধাপে ধাপে সরবরাহের মাধ্যমে ২০৩৬-৩৭ সালের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
বিমানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বহরে মূলত বোয়িংয়ের উড়োজাহাজই ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন এয়ারবাস যুক্ত হলে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের ধরন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বৈচিত্র্য আসবে।বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্রিয় বহরে মোট ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ।
এর পাশাপাশি বিমান ইতোমধ্যে বোয়িংয়ের কাছ থেকেও নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ৩০ এপ্রিল ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আরও ১১টি উড়োজাহাজের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক করার কথা জানানো হয়েছে।সব মিলিয়ে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানের বহরে মোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইডবডি এবং ১৬টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ।
তবে নতুন এয়ারবাস হাতে পেতে এখনো কয়েক বছর সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের ঘাটতি তৈরি হলে তা সামাল দিতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।নতুন উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য পাইলট, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট জনবলের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিমান কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রীসেবা, জ্বালানি দক্ষতা এবং দীর্ঘপথের ফ্লাইট পরিচালনায় আরও সুবিধা পাওয়া যাবে।




