দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মোট ১৪ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) থেকে এই অপরিশোধিত তেল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেল আমদানির অর্থায়নে ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) ঋণ ব্যবহার করা হবে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের পুরোনো ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সৌদি আরবের অ্যারাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুরবান ধরনের অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা তুলনামূলকভাবে উপযোগী। এ কারণে সরাসরি নির্দিষ্ট উৎস থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জিটুজি পদ্ধতিতে সরাসরি ক্রয়ের ফলে সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তেল পাওয়া সহজ হবে বলে আশা করছে সরকার।এদিকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরাসরি ক্রয়ের নীতিগত প্রস্তাবও করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে দরপত্র আহ্বান থেকে জমা দেওয়ার সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ২১ দিন করার সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ক্রয় কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এসব প্রস্তাবের মধ্যে আশুগঞ্জের ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ক্রয়ও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের ট্যারিফ ৩ দশমিক ৭ সেন্ট, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ টাকা ৫৪৩৬ পয়সা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথকে মিটারগেজ থেকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে মরক্কোর প্রতিষ্ঠান ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬৬ মার্কিন ডলার। এ ক্রয়ে মোট ব্যয় প্রায় ৪২৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় উঁচু সড়ক নির্মাণ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ২০০ শয্যার ১১ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাবও অনুমোদনের তালিকায় রয়েছে।সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য অপারেশন থিয়েটার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রস্তাবও এ বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ক্রয় ও অবকাঠামোগত উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন, যোগাযোগব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।




