বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের অবদান বাড়িয়ে ৭ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি।শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই অবদান ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা, নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনের সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার কাজ চলছে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এর উদ্বোধনের আশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটে পিপিপি, যৌথ উদ্যোগ ও লিজিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

এ ছাড়া ৫৫৪টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে ঘিরে সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথাও জানান তিনি।পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। পর্যটকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়নে পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথাও জানান তিনি। কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় বিচ কার্নিভাল আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, দেশে পর্যটনের প্রয়োজনীয় সব উপাদান থাকলেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। পর্যটন নীতি ও মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ, হয়রানি বন্ধ এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার এনডিসি সভাপতিত্ব করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন অনুষ্ঠানে থিমভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব মিজ পাইখা আল নুওয়াইস ভিডিওবার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন।অনুষ্ঠানে পর্যটন খাতের বিভিন্ন অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬ দেওয়া হয়।