জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর দেশের বাজারে মোটরসাইকেল বিক্রি কমেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মোট বিক্রি কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিক্রিতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র—কিছু ব্র্যান্ডের বিক্রি কমলেও বেড়েছে কয়েকটির।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩৫ হাজার ৩৩৫টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল। চলতি বছরের একই মাসে বিক্রি হয়েছে ৩৪ হাজার ৮৮৭টি। গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ায় দৈনন্দিন যাতায়াতের ব্যয় বেড়েছে। ফলে বিশেষ করে তরুণ ও চাকরিজীবীদের মধ্যে মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়েছে। এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী বিজয় কুমার মন্ডল *দ্য ডেইলি স্টারকে* বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর মোটরসাইকেল বিক্রি কিছুটা থমকে যায়। দৈনন্দিন যাতায়াতে মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল ক্রেতারা এখন জ্বালানি খরচ নিয়ে বেশি সচেতন।
এসিআই মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন জানান, তেলের দাম বাড়ার পর তাদের মোটরসাইকেলের চাহিদা প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। বাড়তি ব্যয়ের কারণে ক্রেতারা এখন কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও সতর্ক হচ্ছেন।
ব্র্যান্ডভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে হোন্ডার বিক্রি ২১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৬৪৮টি এবং বাজাজের বিক্রি ৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে। টিভিএসের বিক্রি কমেছে ২৩ শতাংশ, আর রয়েল এনফিল্ডের কমেছে ৩০ শতাংশ। এ মাসে টিভিএসের ৩৯১টি ও রয়েল এনফিল্ডের ৪৭৪টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, ইয়ামাহার বিক্রি মাত্র ১ শতাংশ কমে হয়েছে ৮ হাজার ২৮৪টি।
বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে সুজুকি ও হিরো। সেপ্টেম্বরে সুজুকির বিক্রি ১৫ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৫৪৮টি এবং হিরোর বিক্রি ১৩ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ২৮৬টিতে পৌঁছেছে।
রয়েল এনফিল্ডের বিক্রি কমার কারণ হিসেবে নতুন মডেলের অভাবকে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশে ব্র্যান্ডটির একমাত্র পরিবেশক ইফাদ গ্রুপের গ্রুপ ভাইস চেয়ারম্যান তাসকিন আহমেদ। তিনি এটিকে সাময়িক পরিস্থিতি উল্লেখ করে নতুন মডেলের চারটি রঙের মোটরসাইকেল আনার পরিকল্পনার কথা জানান।
এদিকে, বৈদ্যুতিক টু-হুইলারের চাহিদা বাড়ছে। নিলয় বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী বিজয় কুমার মন্ডল জানান, এপ্রিল থেকে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ হাজার ই-বাইক বিক্রি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি সাশ্রয় ও সাশ্রয়ী মূল্য এখন মোটরসাইকেল বাজারে ক্রেতা আকর্ষণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ত্রৈমাসিক হিসাবেও বিক্রিতে সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে ৯৮ হাজার ৫৮০টি, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯৯ হাজার ৩৭৬টি। জুলাইয়ে বিক্রি ৭ শতাংশ কমলেও আগস্টে ৬ শতাংশ বেড়েছিল; সেপ্টেম্বরে আবার ১ শতাংশ কমেছে।




