রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে গভীর রাতে দুটি মদের বারে অভিযান চালিয়ে শতাধিক তরুণ-তরুণীকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আটক ব্যক্তিদের কাছে মদ্যপানের বৈধ অনুমতিপত্র না পাওয়ায় মুচলেকা ও লিখিত অঙ্গীকারনামা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিজাত এলাকার বারে আকস্মিক অভিযান নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রবিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ১০১, গুলশান এভিনিউয়ের আরএম টাওয়ারের চতুর্থ তলায় র ক্যানভাস নামের বারে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গুলশান সার্কেল। গুলশান সার্কেলের একজন কর্মকর্তা জানান, বিনা লাইসেন্সে বারে মদ্যপানের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আদালত থেকে কিছু নির্দেশনা পেয়েছে। আদালতের ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, বিনা লাইসেন্সে মদ্যপানের বিষয়টি তদন্ত করতে অধিদপ্তরের একটি দল র ক্যানভাসে যায়। এ সময় বারটি থেকে ৯১ জন তরুণ-তরুণীকে আটক করা হয়। পরে গুলশান থানা থেকে পুলিশ ডেকে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া বারে মদ্যপান করবেন না—এমন লিখিত অঙ্গীকারের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
গুলশানের আরএম টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় মিডিয়া ক্লাবেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একই দল অভিযান চালায়। মিডিয়া ক্লাবটি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের ১৫৮/সি হোল্ডিংসে প্রতিষ্ঠিত। বিগত ৫ আগস্টের পর এই ক্লাবটির মালিকানা পরিবর্তন হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে মিডিয়া ক্লাবের নামে বার চালু করা হয়। আরএম টাওয়ারে মিডিয়া ক্লাবের বার স্থাপনের বৈধ কোনো অনুমতি নেই। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা উত্তর অঞ্চলের উপপরিচালক রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল মিডিয়া ক্লাবে অভিযান চালায়। সেখানে অনুমতি ছাড়া বার ব্যবহার করার অভিযোগে ১৮ জনকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়ে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
অভিযানের পর বার দুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান দুটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযানের ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গভীর রাতে অভিজাত এলাকার বারে অভিযান, সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, মদ্যপানের অনুমতিপত্র যাচাই ও আইন মেনে বার পরিচালনা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।