কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সুমন মিয়া (৩৫) নামে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে এককভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় নিহত কিশোরীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কুমিল্লা জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া। এ সময় লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানসহ জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাতে সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাস থেকে নেমে বাড়ি ফেরার জন্য অটোরিকশা খুঁজছিল কিশোরীটি। ৩০০ টাকায় ভাড়া ঠিক করে সে সুমনের অটোরিকশায় ওঠে। পরে শর্টকাট পথে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক তাকে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে লালমাইয়ের দিকে নিয়ে যান।
পুলিশের অভিযোগ, পথে নির্জন স্থানে অটোরিকশা থামিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সুমন। সে চিৎকার করলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে পাশের ধানখেতে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করেন বলে পুলিশের দাবি। মৃত্যুর আগে কিশোরীটি তার বাবার মুঠোফোনে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে সাহায্য চেয়েছিল। তবে তার বাবা পরদিন সকালে বার্তাটি দেখতে পান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর সুমন অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে ফেলে পালিয়ে যান। পুলিশের তথ্যমতে, তিনি একটি পুকুরে গোসল করে কিশোরীর আইফোনটি জঙ্গলে ফেলে চট্টগ্রামে তাঁর ভাইয়ের কাছে আত্মগোপন করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার একটি ধানখেতের আইলের পাশ থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।