দুই মাসেও নিখোঁজ স্কুলছাত্রী, মেয়েকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি স্কুলছাত্রী মারুফা আক্তার তুষীর। মেয়ের অপেক্ষায় প্রতিটি দিন কাটছে উৎকণ্ঠায়। তার বর্তমান অবস্থান কিংবা বেঁচে থাকার বিষয়ে কোনো তথ্য না পেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন মা-বাবা। তাদের একমাত্র চাওয়া, মেয়েকে জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়েকে উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তুষীর মা। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মায়ের অভিযোগ, তুষী উপজেলার নারাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। স্কুলে যাতায়াতের সময় প্রতিবেশী উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের মেনজেনা গ্রামের রনি মিয়া তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি রনির পরিবারের সদস্যদের জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
তার দাবি, গত ২৯ আগস্ট সকালে বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুষীকে তুলে নিয়ে যান রনি। এরপর থেকে মেয়েটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় তুষীর বাবা ১ অক্টোবর ভালুকা থানায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
তুষীর মায়ের আরও অভিযোগ, মামলার আসামি রনির বাবা আবদুল আলীম কাজল উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে মুক্ত হয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাদের চাপ দিচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও তারা কোনো প্রতিকার পাননি। উল্টো তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুষীর মা। তিনি বলেন, মেয়ের কোনো খবর না পেয়ে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। একদিকে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা, অন্যদিকে হুমকি-ধমকির কারণে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তাদের আর কোনো দাবি নেই। শুধু মেয়েকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে চান। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনারও আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তুষীর বাবা, পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।




