“আমি আমার স্ত্রী হত্যার বিচার চাই”—কুমিল্লার দেবীদ্বারে আয়োজিত মানববন্ধনে এভাবেই বিচার দাবি করেন আব্দুল আজিজ। তার অভিযোগ, বাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা ও তদন্তকে কেন্দ্র করে পুলিশি হয়রানি এবং গ্রেপ্তার আতঙ্কে তার স্ত্রী হাসনা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিন দিন চিকিৎসার পর গত ৯ অক্টোবর তিনি মারা যান। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে অভিযোগটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের সামনে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দেবীদ্বার পৌরসভার ভোষণা গ্রামে আব্দুল আজিজের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। কর্মসূচি থেকে নবী নেওয়াজসহ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং পাল্টা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
আব্দুল আজিজ অভিযোগ করেন, ৬ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অজয় চক্রবর্তী তাদের বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নিয়ে মীমাংসা করতে চাপ দেন। এ কারণে পরিবারের সদস্যরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে ছিলেন বলে দাবি তার।
আহত আক্তার হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন, হামলার সময় তার স্বামী, সন্তান ও প্রতিবন্ধী মেয়েকেও মারধর করা হয়। তার স্বামীর দাঁত ভেঙে দেওয়া এবং পায়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগও করেন তিনি। স্বামী অসুস্থ থাকায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে; বর্তমানে মানুষের সহায়তায় সংসার চালাতে হচ্ছে বলে জানান শাহিনা।
অন্যদিকে, দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এজাহার অনুযায়ী মামলা রেকর্ড করে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এজাহারে কোনো আঘাতের বিবরণ বাদ পড়লে তদন্তে তা যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। একই ঘটনায় অপর পক্ষও পাল্টা মামলা করেছে বলে জানান তিনি।
মানববন্ধনে কাজী লোকমান, মো. আউয়াল খাঁন, মো. শাহজালাল, মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। বক্তারা দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।




