রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) উপাচার্যের কক্ষে কর্মকর্তাদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম এবং সংস্থাপন শাখার অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. জিয়াউর রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগসংবলিত চিঠি নিয়ে উপাচার্যের কক্ষে আলোচনা চলছিল। ওই দুই শিক্ষক হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিউল ইসলাম জীবন এবং ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ড. মো. মনিরুজ্জামান। তাদের বিরুদ্ধে পাঠানো অভিযোগপত্রে যৌন হয়রানি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সময়ে লেখা ও প্রকাশিত বিষয় নিয়ে আপত্তির কথা উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগের পক্ষে কিছু নথিও সংযুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।
আলোচনার একপর্যায়ে অভিযোগপত্রগুলো কারা পাঠিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রফিকুল ইসলাম। এ সময় শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক মামদুদুর রহমানকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে গড়ায়।
ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সম্প্রতি পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা উপাচার্যের কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পদোন্নতি ও কর্মকর্তাদের মধ্যকার বিরোধ থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
আহত রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সহকর্মীর পদোন্নতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তারা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার হামলার শিকার হন। এ সময় ফুলের টব ছুড়ে মারা হলে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
অন্যদিকে, শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মামদুদুর রহমানের দাবি, স্বাধীনতা পরিষদের নেতারা উপাচার্যের উপস্থিতিতে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সহসভাপতি ড. জিয়াউর রহমানের ওপর হামলা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মাসুদ রানাকে। সদস্যসচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসমাইল হোসেন এবং সদস্য শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট ড. জিন্নাতুল বাশার।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।


