নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদী শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ‘রাখের উপবাস’। পরিবারের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য ও বিপদমুক্তির প্রার্থনায় শত শত ভক্ত দিনভর উপবাস রেখে সন্ধ্যায় আশ্রম প্রাঙ্গণে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে এ ধর্মীয় আচার পালন করছেন।
কার্তিক মাসের শেষার্ধে শনি ও মঙ্গলবার এ ব্রত পালনের রীতি রয়েছে। এ বছর ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া আয়োজন চলবে আগামী ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত। ‘কার্তিক ব্রত’, ‘গোসাইর উপবাস’ ও ‘ঘৃত প্রদীপ প্রজ্বালন’ নামেও পরিচিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে বারদী আশ্রম এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
আশ্রম প্রাঙ্গণে সন্ধ্যা নামার আগেই ভক্তরা নিজেদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসে কলার খোলে সাজিয়ে নেন প্রদীপ। তাতে ঘি ও সলতে প্রস্তুত করে শুরু হয় প্রার্থনা। সন্ধ্যায় ঘণ্টা ও কাঁসার ধ্বনির সঙ্গে একযোগে জ্বলে ওঠে অসংখ্য প্রদীপ। ধূপের ধোঁয়া, উলুধ্বনি আর আলোর সমারোহে আশ্রমজুড়ে সৃষ্টি হয় ভক্তিময় আবহ।
আশ্রম কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উনবিংশ শতাব্দীতে এলাকায় কলেরা ও বসন্তের প্রাদুর্ভাবের সময় রোগমুক্তির কামনায় বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর নির্দেশে এই উপবাস ও প্রদীপ প্রজ্বালনের প্রচলন হয়। পরবর্তী সময়ে তা ধর্মীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর ভক্তরা নিজেদের ও পরিবারের কল্যাণ কামনায় এ ব্রত পালন করেন।
নিয়ম অনুযায়ী, ব্রতের আগের দিন থেকেই সংযম পালন শুরু হয়। নির্ধারিত দিনে সারাদিন উপবাস থেকে সন্ধ্যায় ধূপ ও প্রদীপ নিয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন ভক্তরা। পূজা শেষে প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে উপবাস ভাঙা হয়। পরে প্রার্থনার সামগ্রী ছাগলবাগিনী নদীতে বিসর্জন দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
গাজীপুর থেকে আসা ভক্ত পাপিয়া রানী দাস জানান, পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনায় তিনি সারাদিন উপবাস রেখে প্রদীপ জ্বালিয়েছেন। অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডস থেকে আসা এলিজাবেথ নামের এক দর্শনার্থী আয়োজনের আলোকসজ্জা, পোশাক ও ধর্মীয় পরিবেশের প্রশংসা করেন। উৎসবটি কাছ থেকে দেখতেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানান।
আশ্রমের প্রধান পুরোহিত প্রাণেশ চক্রবর্তী বলেন, অতীতে মহামারির সময় রোগমুক্তির প্রার্থনা থেকে এই ব্রতের সূচনা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করে ভক্তরা এখানে সমবেত হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ভক্তদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে আশ্রম এবং আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছে।