রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) এক শিক্ষার্থীকে আটক করে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত তিন ছিনতানকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নগরীর খামার মোড় এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে মুরাদ হাসান মুহিদ (২৫), একই এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে রতন মিয়া (২৮) ও দক্ষিণ বাবুখাঁ এলাকার নুর মোহাম্মদ ওরফে বাংটুর ছেলে নুর জামাল ইসলাম (২৭)।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমন হালদার ছিনতাইকারীদের হামলা ও ছিনতাইয়ের শিকার হন। তাকে নগরীর লালবাগ এলাকায় আটক করে মারধর করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সংক্ষুদ্ধ হয়ে সন্ধ্যায় সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারে রাতেই অভিযানে নামে। কিন্তু বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আসামিরা আত্নগোপনের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদেরকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তর হওয়া ওই তিনজন আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চুরি, ছিনতাই, মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক মামলা ও এফআইআর প্রসিকিউশন রয়েছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য এবং চুরি, ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত। ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে মামলা করেছে।
এর‌ আগে, বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমন হালদার লালবাগ এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এ সময় তাকে আটকে রেখে প্রায় দুই ঘণ্টা মারধর ও নির্যাতন করা হয়। পরে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক দুই হাজার আটশ টাকা হাতিয়ে নেয় ছিনতাইকারী।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে সন্ধ্যায় ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেন। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর লালবাগ ও কেডিসি এলাকা মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সন্ধ্যার পর চলাচলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।