লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একটি মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের মারধর ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। শিশুদের নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়ায় এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন শিশুকে মারধর করতে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে আদনান নামে এক শিক্ষার্থীকে বন্ধ কক্ষে চড়-থাপ্পড় ও স্কেল দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য রয়েছে। অন্য একটি ভিডিওতে এক শিশুর মাথায় বারবার আঘাত করতে দেখা যায়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শাসনের নামে দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটির শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। কোনো কোনো শিশুকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
নির্যাতনের শিকার আদনানের মা-বাবাসহ কয়েকজন অভিভাবক অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন। মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চান।
অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরব বলেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছেন এবং তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
২০২৫ সালে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করছে বলে জানা গেছে।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, প্রধান শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। অভিভাবকেরা তাঁর কাছে গেলেও লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




