রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় ফুটপাত সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেয়ালে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ১০ গুণী ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। তবে সেই তালিকায় কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ও শিল্পীর নাম না থাকায় প্রশ্ন তুলেছেন কবি, লেখক ও চিত্রকর ব্রাত্য রাইসু।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করার পাশাপাশি আশপাশের দেয়ালও সাজানো হয়েছে। সেখানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যজিৎ রায়সহ ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে।
তবে এ তালিকায় হুমায়ূন আহমেদ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হক, আজম খান ও কামরুল হাসানের মতো ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাত্য রাইসু।বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন—কোন মানদণ্ডে দেয়ালে প্রতিকৃতি দেওয়ার জন্য ১০ জনকে বাছাই করা হয়েছে এবং কারা এই তালিকা তৈরি করেছেন?তার বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল দেশের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি। তিনি মনে করেন, জায়গা সীমিত হলে অবশ্যই বাছাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেই বাছাইয়ে বাংলাদেশের শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিবিদদের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের প্রতিকৃতি রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে ভারতীয় ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি কী বার্তা দিচ্ছে, সেটি নিয়েও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।তবে নিজের বক্তব্যে ব্রাত্য রাইসু স্পষ্ট করেছেন, বিদ্যাসাগর ও সত্যজিৎ রায়ের প্রতি তার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা রয়েছে। তার আপত্তি মূলত বাংলাদেশের গুণী ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে ভারতীয় ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া ও সাংস্কৃতিক নীতির প্রশ্নে।তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ধারার সম্প্রসারণ হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা আবারও ফিরে আসতে পারে।এ ঘটনায় তিনি দেশের সচেতন সংস্কৃতিজীবীদের বিষয়টি নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।




