শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, ভাঙা আসবাব, অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার ও শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। প্যারিস থেকে শুরু হয়ে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাংশও। তাদের দাবি, আর্থিক অবস্থান বা বসবাসের এলাকার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।
আন্দোলনের সূত্রপাত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিসের উপকণ্ঠ ক্রেতেইয়ের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীর ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ থেকে। পরে বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্কুলের অবকাঠামোগত দুরবস্থা ও পাঠদানের সমস্যাগুলো সামনে আনতে শুরু করে।
এএফপির বরাতে জানা যায়, ৬ অক্টোবর প্যারিসে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী তাদের স্কুলের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে। তার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী ৩৬ জন। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ক্লাসের মধ্যে বিরতি মাত্র এক ঘণ্টা। শৌচাগার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এমন পরিবেশে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন।
বিশেষ করে দরিদ্র এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সমস্যার ব্যাপকতা বেশি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্যারিসের উত্তরের সেইন-সাঁ-দেনি অঞ্চলের কয়েকটি স্কুলে ভাঙা আসবাব, অকার্যকর শৌচাগার ও শিক্ষা উপকরণের অভাবের কথা জানিয়েছে গার্ডিয়ান। শিক্ষার্থীরা বলছে, তাদের চাওয়া বাড়তি বিলাসিতা নয়; বরং স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করার উপযোগী পরিবেশ।
আন্দোলনের ব্যাপ্তিও বাড়ছে। ল্য মঁদের তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ফ্রান্সের ১ হাজার ২০টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় কোনো না কোনোভাবে আন্দোলনের আওতায় আসে। এর মধ্যে ২২২টি প্রতিষ্ঠানে অবরোধ হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে প্যারিসের পাশাপাশি মার্সেই ও লিয়ঁতেও বিক্ষোভ হয়েছে।
সরকার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে সমস্যাগ্রস্ত স্কুলগুলোতে প্রায় তিন হাজার যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছে, শুধু নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে সংকট কাটবে না। ভবন সংস্কার, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ ও দীর্ঘমেয়াদি বাজেট বরাদ্দও জরুরি।
অন্যদিকে কয়েকটি বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, সম্পত্তি ভাঙচুর ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার স্বীকার করলেও কর্তৃপক্ষ ভাঙচুরের বিরোধিতা করছে। শিক্ষক সংগঠনগুলোর একাংশ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
এই আন্দোলন ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থায় সুযোগের সমতা নিয়ে বড় বিতর্ক সামনে এনেছে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, শিক্ষা যদি সবার অধিকার হয়, তাহলে দেশের সব স্কুলে ন্যূনতম অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা যাচ্ছে না কেন? এখন সরকারের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে, সেদিকেই নজর আন্দোলনকারীদের।




