সার্বিয়ায় সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পুলিশের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার দেশটির প্রসিকিউটর কার্যালয় গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রকাশ করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন ৪২ বছর বয়সী মার্কো ক্রিকাক। তিনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যজন সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন বিভাগের পুলিশ কমান্ডার বোসকো সেকুলোভিচ।
সার্বিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মার্কোকে নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। তিনি ক্ষমতাচ্যুত নেতা আলেকজান্ডার ভুচিচের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর আচরণের জন্য ছাত্র সংগঠনগুলো তাকে দায়ী করে আসছিল। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে মার্কোসহ কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবিও জানানো হয়েছিল।
গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে ভুচিচের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা শিক্ষার্থীদের সমর্থিত জোট জয়লাভ করে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের কোনো যোগসূত্র নেই বলে জানিয়েছেন বেলগ্রেডের প্রধান প্রসিকিউটর নেনাদ স্তেফানোভিচ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক পুলিশপ্রধান ভেসেলিন মিলিচের অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে মার্কো ও সেকুলোভিচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
মামলার সূত্রপাত গত মে মাসে বেলগ্রেডের একটি রেস্তোরাঁয় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনায় অপরাধজগতের এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর তদন্তের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন পুলিশপ্রধান মিলিচকে তিন দিনের মাথায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অপরাধের তথ্য আড়াল করা এবং অভিযুক্তকে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।
প্রায় দুই মাস আটক থাকার পর মুক্ত হয়ে মিলিচ মার্কো ও সেকুলোভিচের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন। তার অভিযোগ, তদন্তের সময় দুই কর্মকর্তা প্রসিকিউটরদের কাছে অসম্পূর্ণ ও জাল প্রমাণ উপস্থাপন করেছিলেন।
সূত্র: এএফপি



